এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ডের অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু

মেয়াদ শেষ হওয়ায় এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ডটি বর্তমানে অবসায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

মেয়াদ শেষ হওয়ায় এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ডটি বর্তমানে অবসায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ফান্ডটির ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি এ তথ্য গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানিয়েছে।

তথ্যানুসারে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১ অনুযায়ী ফান্ডটি অবসায়নের আওতাভুক্ত। এ পরিপ্রেক্ষিতে ফান্ডটির ট্রাস্টি পর্ষদ সব বিনিয়োগকারী ও দাবিদারকে আগামী ২৩ জুনের মধ্যে লভ্যাংশ, মূলধন ফেরত বা অন্য যেকোনো দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ লিখিতভাবে আবেদন করার অনুরোধ জানিয়েছে। আবেদনের ঠিকানা: ট্রাস্টি বিভাগ, প্রথম তলা, ৪২, দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। উল্লেখ্য, ওই তারিখের পর জমাকৃত কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানিয়েছে ট্রাস্টি পর্ষদ।

এর আগে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০০১-এর প্রযোজ্য নিয়মগুলো অনুসরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এশিয়ান টাইগার গ্রোথ ফান্ডের মেয়াদি (ক্লোজ-অ্যান্ড) থেকে বে-মেয়াদি (ওপেন-অ্যান্ড) ফান্ডে রূপান্তর ও ১০ বছর মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে সম্মতি দেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ফলে গত ১০ মার্চ ফান্ডটির মেয়াদ শেষ হয়। আর ৯ মার্চ ফান্ডটির স্পট মার্কেটের লেনদেন শেষ হয়। এজন্য রেকর্ড ডেট ছিল ১০ মার্চ। ফান্ডটির ট্রাস্টি পর্ষদ জানিয়েছিল, রেকর্ড ডেটে ফান্ডটির ইউনিট যাদের কাছে থাকবে, তারা অবসায়নের অর্থ পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে ইউনিটহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি ফান্ডটি। আলোচ্য হিসাব বছরে এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ডের ইউনিটপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৯৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৩ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে ফান্ডটির বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ইউনিটপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিইউ) দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৩১ পয়সায়, ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে যা ছিল ১১ টাকা ২৫ পয়সা।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে ইউনিটহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি ফান্ডটির ট্রাস্টি। আলোচ্য হিসাব বছরে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি লোকসান হয়েছে ২৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে ইউনিটপ্রতি আয় ছিল ৫০ পয়সা। বাজারমূল্যের ভিত্তিতে গত ৩০ জুন শেষে ফান্ডটির এনএভিপিইউ দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ২৫ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে নিট আয়ের ভিত্তিতে ইউনিটহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল ফান্ডটির ট্রাস্টি। আলোচ্য হিসাব বছরে ফান্ডটির ইপিইউ ছিল ৫০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৯৩ পয়সা। বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ওই বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিইউ ছিল ১০ টাকা ৯৮ পয়সা, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ১২ টাকা ৪১ পয়সা।

এশিয়ান টাইগার ফান্ডটি সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরে ১৫ শতাংশ, ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ৭ দশমিক ৫০ ও ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ১২ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফান্ডটির পরিশোধিত মূলধন ৬১ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ও পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। মোট ইউনিট সংখ্যা ৬ কোটি ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০। এর মধ্যে ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ২৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক, দশমিক ২০ শতাংশ বিদেশী ও বাকি ৬৭ দশমিক ৮০ শতাংশ ইউনিট সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

আরও